image description

বারফাং ও একটি কথোপকথন

জনৈক পরিচিত: লাচুং লাচেন ইউমথাং এর কৌলিন্য নেই, নাথাং,জুলুক এর জৌলুস নেই, ছাঙ্গু ,নাথুলার মত পর্যটক টানার দৌড়ে নেই, গ্যাংটক এর জাঁকজমক নেই, এমনকি পেলিং রিনচেনপং এর অবারিত কাঞ্চা দর্শনের প্রলোভন ও নেই।

তো কি আছে দক্ষিণ সিকিমের এই অখ্যাত গ্রামে? কিছু নিশ্চই আছে তোমার এই সাধের বারফাঙে?

এই অধম:বিশেষ কি আর থাকবে বলো?সেই তো একই ,যা সব পাহাড়ি গ্রাম গুলো তে থাকে। অনর্গল সবুজ, তরঙ্গায়িত নীল কালো সাদা ধূসর পাহাড়, অনেক দূরে দূরে দুটো কি একটা কাঠের বাড়ি, মুষ্টিমেয় কিছু হাসিখুশি পরিশ্রমী মানুষ,লালনীল সবুজ-হলুদ রকমারি প্রেয়ার ফ্ল্যাগ এর উদাসীন উড়ে চলা, জঙ্গুলে পথ, বুনো অর্কিড আর ফুলেদের জলসা, পাহাড়ের গায়ে একফালি আস্তানা যার জানালা জুড়ে পথভোলা মেঘের আনাগোনা, ছটফটে রংচঙে পুঁচকে পুঁচকে পাখির ঝাঁক, এই রোদ্দুর তো পরক্ষনেই আকাশের মুখভার। এই সবই আর কি!

: অ! তা আর কি আছে শুনি? কেন বাপু ওখানে গিয়ে মিছে টাকা গুনি?

উমমম্,অফুরান নৈঃশব্দ্য আছে, আছে ঝিম ধরা নির্জনতা, সাপের মত এঁকেবেঁকে ছায়া বিছানো যে পথ গুলো দূরে চলে গেছে, তাদের হাতছানি আছে। 
দস্যি মেঘ গুলো আকাশ থেকে কখন যে কি রং ধার করে নিয়ে শরীরে মাখবে, তার সাক্ষী থাকার সুযোগ আছে। আর শহুরে আকাশে যে তারা গুলো অভিমানে মুখ লুকায় ,তারা রাত্রি এলে এখানে শামিয়ানা সাজায়।


: ব্যস? এর জন্যে হচ্ছো হন্যে? বলি দর্শনীয় কিছু নেই কন্যে?
না,নেই ,ভাগ্যিস নেই! ওই তো যাও না কয়েক কিমি দূরে, দেখবে ওরা কেমন পাহাড় ভেঙে,গাছের সবুজ কেড়ে নিয়ে, ইট কাঠ,কংক্রিটের বিশাল বিশাল মূর্তি গড়ছে, নকল কেয়ারী করা বাগানে বসিয়ে দিচ্ছে হরেক রকম প্রাণহীন ঈশ্বর। ছোট্ট নিরালা পাহাড়ি জনপদ ,ইমারত ও গাড়ির চাপে হাঁসফাঁস করে উঠছে। তবে প্রাণের ঠাকুরের বয়েই গেছে ওই কৃত্রিম স্বর্গে থাকতে। তিনিও ঠিক চান নিভৃতে হোক তার অমরাবতী।

: নিদেন একটা লেক কিংবা ফলস? এ যে দেখছি পুরো লস!

এ তল্লাটে তাও নেই! বেশ কয়েক মাইল দূরে গেলে পাবে একটা টলটলে জলের হ্রদ বা খানকয়েক উচ্ছল ঝর্ণা। তবে তাকে দু দণ্ড শান্তি তে উপভোগ করতে পারবে কি সেল্ফি তোলার হিড়িকে? মানুষ আর গাড়ির ভিড়ে সেথায় চাপা পড়ে গেলে নিসর্গ, কার কি এসে যায় বলো?

: পারবো করতে বরফে হুটোপাটি? নয়তো পাহাড়ে যাওয়ার আনন্দ ই যে মাটি!

না, তাও না, এখানে যে কেবল সবুজের একচেটিয়া সাম্রাজ্য!


: না করে এত গৌরচন্দ্রিকা, 
বললেই হত এ জায়গা বেবাক ফাঁকা! 
ধুস!যাবোনা, কিছুই তো পাবোনা!

তাই ভালো,যেওনা বরং। কিছু পাহাড় থাক তার ছায়াঘন পল্লব নিয়ে,কমলা রঙের রোদ নিয়ে,আয়ুহীন নিস্তব্ধতা নিয়ে...!

★★★★★★★★★★★★★★★★★★★★★

তবু কেউ যদি চায় সেই জংলা পাহাড় ঘেরা মেঘের বাড়ি তে নিজের সাথে নিভৃতে কিছু মুহূর্তযাপন, তার ঠিকানা হতে পারে বারফাং রিট্রীট।
কিছু তথ্য(যদি প্রয়োজনে লাগে) : রাভাঙলা থেকে 6 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বারফাঙ রিট্রীট। আতিথেয়তা,আরাম,ও পাহাড়ি নিসর্গ, মাইনাস ভিড় ,একসাথে পেতে চাইলে যেতে পারেন। শুধুই নিখাদ অবসরযাপনের জন্য। 
রাভাঙলা শহর থেকে ছোট গাড়ি 300 টাকা নিয়েছিলো পৌঁছাতে। 
মেক মাই ট্রিপ থেকে বুক করেছিলাম, ব্রেকফাস্ট সমেত দিনপ্রতি দুজনের 2100 টাকা লেগেছিলো।
কুক এর রান্নার হাত ও বেশ ভালো ।
ইন্টারনেট কানেকশন পাওয়া যায়না। আর বিল পেমেন্ট এর জন্য ক্যাশ ক্যারি করুন।