image description

ঐতিহাসিক বল্লালঢিপি



নদীয়া জেলার মায়াপুরের নিকটতম গ্রাম বামুনপুকুরে প্রায় ১৩ হাজার বর্গফুট জায়গা জুড়ে অবস্থিত ঐতিহাসিক বল্লালঢিপি l কৃষ্ণনগর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে মায়াপুর যাওয়ার রাস্তায় বামনপুকুর বাজারের কাছেই এই বল্লাল ঢিবি। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া দু-দফায়, ১৯৮২–’৮৩ থেকে ১৯৮৮–’৮৯–এর মধ্যে এখানে খননকার্য পরিচালনা করে l আবিষ্কৃত হয়েছে অষ্টম-নবম দশকের সুবিশাল বৌদ্ধ স্তূপ বা বিহারের ধ্বংসাবশেষ। ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ উৎখননের ফলেই এখানে আবিষ্কৃত হয় এক বৃহদায়তন ইটের ইমারত যার চারদিকে ছিল উচ্চ প্রাকার। এই ইমারতটির ধ্বংসাবশেষ এত জটিল যে এখানে ঠিক কী ছিল তা বোঝাই দুষ্কর। তখনই পাওয়া গিয়েছিল হাজার বছরের প্রাচীন প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ, পঙ্খের মূর্তি, পোড়ামাটির মানুষ ও জীবজন্তুর মূর্তি, তামা ও লোহার তৈরি নানান তৈজসপত্র, পেরেক ও নানান প্রত্নসামগ্রী। বিরাট ঢিবিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ১৩০০০ বর্গ ফুটের এই বিহার একদা ছিল শিক্ষার পীঠস্থান। এর আকৃতিগত সাদৃশ্য রয়েছে বিক্রমশিলা মহাবিহারের সঙ্গে।ঐতিহাসিকরা বলেন, অষ্টম ও নবম শতকের ধ্বংসপ্রাপ্ত পুরনো স্থাপত্যকীর্তির ওপর পুনর্নির্মিত এই সৌধের উপরিভাগ আনুমানিক দ্বাদশ শতকের। এর দক্ষিণ দিকে আছে বড়দিঘি এবং তারও দক্ষিণে আছে বল্লালদিঘি গ্রাম। অনেকে বলেন, ধ্বংসস্তুপটি তৎকালীন সমাজের ধ্বংস হয়ে যাওয়া শহর বিজাপুরের একটি অংশ। বিজাপুর ছিল সেই সময়ের একটি অত্তাধুনিক শহর ও সেন বংশের রাজধানী। বিজাপুর স্থাপন করেন রাজা বিজয় সেন (বল্লাল সেনের পিতা) l এখন এই জায়গাটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। পর্যটকদের জন্যে দিনের কিছুটা সময় খোলা থাকে।