image description

Dariyapur - Dokra

চীন, ইজিপ্ট, নাইজেরিয়া এবং আমেরিকার আদিম মানবদের মত লস্ট ওয়াক্স কাস্টিং পদ্ধতিতে শিল্প গড়া আমাদের দেশের আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যেও চালু আছে। পশ্চিমবঙ্গের ডোকরা শিল্পের মধ্যে বেঁচে আছে এই আদিম শিল্পধারা। বর্ধমানের দরিয়াপুরের ডোকরা শিল্পীরা এই ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। কল্পনা, বৈচিত্র এবং কারিগরি তিনটি একসঙ্গে এসে মিশেছে বাংলার এই লোকশিল্পে।


জানা যায়, ৩০০০ বছর আগে বস্তারের রাজা তাঁর স্ত্রীকে উপহার স্বরূপ দিয়েছিলেন ডোকরার তৈরি নেকলেস। বর্তমান ছত্তিশগড় রাজ্যের বস্তার ডোকরা শিল্পের মূলকেন্দ্র হলেও সেখান থেকে এই শিল্প ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্য তথা পশ্চিমবঙ্গেও প্রবেশ করেছে।







প্রথম পর্যায়ে মাটির মণ্ড দিয়ে চাহিদা মত একটি মূর্তি তৈরি করা হয়। এরপর মাটির তৈরি সেই মূর্তির ছাঁচের ওপর মোম ও ধূনোর তৈরি একটি মিশ্রণের প্রলেপ দেওয়া হয়। তৃতীয় পর্যায়ে মূর্তিটির বাইরের আবরণটিতে মোমের সুতো দিয়ে নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়। চতুর্থ পর্যায়ে পাতলা মাটির মণ্ড দিয়ে ছাঁচটি পুরোটা ভরাট করা হয়। তারপর তাতে পিতল গলে গিয়ে ভিতরে ঢুকে যাবার একটা পথ তৈরি করা হয়, ঐ পথ দিয়ে পিতল গলে ছাঁচের ভিতর ঢুকে যায়। পঞ্চম পর্যায়ে ছাঁচে ঢালাই মূর্তিটিকে আগুনে পোড়ানো হয়, পথটিকে ভরাট করে দেওয়া হয় পিতলের টুকরো দিয়ে। আগুনে পিতল গলে মূর্তিটির সঙ্গে মিশে যায়। গরম মাটি দিয়ে ফুটোটি তারপর বন্ধ করতে হয়। ষষ্ট তথা শেষ পর্যায়ে ঢালাই শেষ হওয়ার পর ছেনি ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মাটিগুলিকে বের করে দিতে হয়। মূর্তির গায়ে লেগে থাকা ধাতুর বাড়তি অংশটি কেটে ফেলে দেওয়ার পর মেশিনের সাহায্যে মসৃণ করে নেওয়া হয়। সবশেষে পালিশের পালা।

রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যস্তরের পুরস্কারও পেয়েছেন এই গ্রামের শিল্পীরা। বর্তমানে দেশকালের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও পরিচিতি লাভ করেছে বাংলার এই প্রাচীন লোকশিল্প। মূর্তি-পুতুল-বিগ্রহ ছাড়াও এখানে তৈরি হয়ে থাকে বিভিন্ন ধাতব অলংকার, ঘর সাজানোর উপকরণ। উৎকর্ষের স্বীকৃতি হিসেবে AIACA বর্ধমানের দরিয়াপুরের ডোকরা শিল্পকে ‘ক্রাফট মার্ক’ প্রদান করেছে।