image description

Rajabhatkhawa

বর্ষায় জঙ্গল ঘোরার মজা ঠিক জানতাম না।।। সে আনন্দ অন্য রকম।। বর্ষায় জঙ্গল এর রূপ সে এক অনন্য।।। হঠাৎ করে 2014 সাল 17 তারিখ জুলাই মাস দিন টা বৃহস্পতিবার।।। যাওয়ার দিন পাঁচেক আগে সারপ্রাইজ টা দিলো আমার কর্তা।।। তার বর্ষায় জঙ্গল মন টানছে, তাই ট্রেনে টিকেট কেটে বেরিয়ে পড়া।।। কাঞ্চনকন্যা ট্রেনে করে আলিপুরদুয়ার নেমে সেখান থেকে গাড়ি নিয়ে (21 বস্তি) রাজাভাতখাওয়া র একটি ছোট্ট রিসোর্ট ও তার পারি পার্ষিক অপূর্ব সৌন্দর্য আমার বৃষ্টি ভেজা মন উতাল করে দিলো।।। অদূরে ঘন গাঢ় সবুজ জঙ্গল দিয়ে ঘেরা।।। দুপুরে মাছ ভাত ডাল ভাজা সহ খাওয়া শেষ করে বৃষ্টি ভেজা প্রকৃতি দেখতে দেখতে অন্ধকার নামলো জঙ্গল ঘিরে, সেই সাথে নিঝুম রাতের ঝিঝির ডাক,দূরে রাতচড়ার ডাক মিষ্টি জলো ঠান্ডা হওয়া শরীর মন দুটোই ছুঁয়ে গেল।। তার সাথে হোটেলের দায়িত্বে থাকা ভদ্র লোকটি এসে কফি ও সাথে পিয়াজী এ এক মায়াময় রাত, অদূরে গ্রামে টিম টিম করে জলা আলো ছোট্ট ঘর গুলো রাতের অন্ধকার চিরে এক অন্য অনুভূতি সৃষ্টি করেছিল।।। এইভাবেই সারা রাত নিশাচরের ডাক র ঝিঝির শব্দে গভীর নিদ্রায় ডুবে গেলাম।।। রাত কাটাতে এক নতুন দিনের সূচনা হল বৃষ্টি নেই তেমন কিন্তু আকাশ অভিমানে মুখ ভার করে রাখলো সারা দিন।।। সকালে খেয়ে গাড়ি করে একটু জয়ন্তী নদীর ধারে ঘুরতে গিয়ে আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলাম বর্ষার জয়ন্তীর রূপ দেখে।।। তারপর বক্সসার দিকে একটু ঘুরতে যাওয়া, দিনের বেলায় অন্ধকারাচ্ছন্ন জঙ্গল এক অন্য নিজ্যুম পরিবেশ তৈরি করেছে,তার মধ্যে যদি আপনার চোখে পড়ে সুন্দরী ময়ুর, চিতল হরিণ, নাম না জানা রঙিন পাখির দল তাদের ছেড়ে কি ফিরতে ইচ্ছা করবে।।।।। কিন্তু ফিরতে তো হবে মন খারাপের দিস্তা নিয়ে, আমি তাই করলাম, কটেজে ফিরে খাবার খেতে খেতে শুনলাম আজ নাকি আমাদের জন্য আদিবাসী নৃত্য ও বনফায়ার এর আয়োজন করা হয়েছে ,সেই আনন্দে ভেসে গেলাম ,কথা অনুযায়ী আদিবাসী নৃত্য ও বনফায়ার এর মজা নিয়ে রাত কাটলো আমাদের, তার সাথে ঘোরার অবসান ঘটলো।।।। পরের দিন যথা রীতি আবার গাড়ি করে আমাদের পৌঁছে দিলো আলিপুরদুয়ার স্টেশনে।।। আবার ফিরে এলাম এই ইট কাট পাথরে ঘেরা এই জঙ্গলে ।।।।।
আবার দেখা হবে অন্য কোথাও অন্য কোনো খানে।।।