image description

তিনচুলে এর ইতি কথা

বাঙালি তো তাই পান্তা ভাত শুকনো রুটি খেয়েও বছরে একবার ঘুরতে যাবো এই প্রবণতা আমারদের ও আছে।।। 2017 মে মাস দিনটা বোধহয় 28/29 হবে।। ছেলের স্কুল ছুটি পরে গেছে অনেক দিন।।। বাড়ির কর্তার কাজের খুব চাপ ট্রেনের টিকিট কাটা ছিল এটাই একটা শান্তি।।।। কালিম্পঙ সাইডে দার্জিলিং সাইডে অনেক অফবিট ঘোরা আছে আমাদের।। একটু নিলিবিলি বেশি পছন্দ করি আমাদের পরিবার।।। এবার চিন্তা করে ঠিক করলাম 2দিন তিনচুলে ও 2দিন সানসের ঘুরে আসবো।। কিন্তু বর্ষার একটা ভয় তো ছিল।।। যাই হোক ঘোরাতো হবে সেই আনন্দে বেরিয়ে পড়লাম।।। আমার বড় তার পরিচিত প্রতাপ বাবু কে ফোন করে বুক করলেন সব।।। বলে রাখি তিনচুলে তে অভিরাজ হোমস্টাই আর সানসের এ হোমস্টাই নাম তা মনে নেই।।। NJP তে নেমে দেখি গাড়ি আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।।। পথেই পেলাম বৃষ্টি মনটা একটু খারাপ ই হলো জানি কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা পাবো না।। মেঘে ঢাকা পাহাড় চা বাগান দেখতে দেখতে গাড়ি ছুটলো তিনচুলে এর দিকে।। পথে একটু প্রাতরাশ এর জন্য দাঁড়ানো।।। তারপর পাহাড়ের বুক চিরে ছবির মতো আঁকাবাঁকা পথ ধরে গাড়ি ছুটলো।।।। পাহাড়ের বুকে গাড়ি ছুটলেই এক অন্য অনুভূতি।।। পথে একটু দাঁড়িয়ে বিভিন্ন ছবি তুলতে তুলতে তিনচুলে পৌছালাম 1.30 বেজে গেল।।। বৃষ্টি থাকলেও তিনচুলে গিয়ে মন ভরে গেল।।।সুন্দর একটা হোমস্টাই পেলাম যার চারিদিকে ফুলের বাগান দিয়ে সাজানো।।।। একটি কাঠের রুম দিয়েছিলো দোতালায়।।। তার বারান্দা দিয়ে সামনের পাহাড়টা মায়াময় লাগছিলো।।। টিপ টিপ করে বৃষ্টি পড়ছে কোথায় ঘন মেঘ আবার কোথাও হালকা কুয়াশায় মোড়া এই বয়সে এসে আবার এই প্রকৃতির প্রেমে পরেগেলাম ।।। দুচোখ ভোরে প্রকৃতির এই রূপ দু হাত দিয়ে আলিঙ্গন করে নিলাম।।। হঠাৎ ছেলে এসে ডাকলো মা খেতে যাবে না তারা যে ডাকাডাকি করছে।।গেলাম ডাইনিং এ ভাত, ডাল, আলুভাজ,সবজি,আর মুরগির মাংস দিয়ে দুপুরের খাওয়া সারলাম।।। রাসায়নিক সার ছাড়া এখানের সব খাবারের স্বাদ সত্যি অপূর্ব।।।হোটেলের সকলের ব্যবহার সত্যি খুব আন্তরিক।। খাওয়া সেরে আসে পাশে একটু পায়ে হেটে ঘুরে বিকেলের আলো পড়ার আগে ফিরে এলাম।।। সেই সময় আরো দুটো উত্তর কলকাতার পরিবার সেখানে ছিলেন সন্ধের পর তাদের সাথে বসে আলাপ পরিচিত হয়ে চললো দেদার আড্ডা রাত 9.30 পর্যন্ত।।। তারপর রাতের খাবার খেয়ে যে যার ঘরে।।।
সকালে উঠে চা সহ প্রাতরাশ সেরে 9টা নাগত বেরিয়ে পড়লাম গাড়ি নিয়ে ডেলো পাহাড়,মরগান হাউস,টি স্টেট, লামহাটা নেচার পার্ক অপূর্ব সব জায়গা দেখে হোমস্টাই তে ফিরলাম বিকেল পর 4টের কাছা কাছি।। খুব খিদেও পেয়েছিল সেই মুহির্তে গরম ভাত ডাল মাংস আমার কাছে অমৃত মতো লাগলো।।। তারপর সন্ধে আড্ডা আর রাতে 10.30 নাগাদ খেয়ে আবার যে যার ঘরে শান্তির নিদ্রা।।।।।
সকালে উঠে চা প্রাতরাশ সেরে সবাই কে টা টা করে তিনচুলে থেকে বেরোতে প্রায় 10.00 বেজে গেল।।
আবার গাড়ি ছুটলো পাহাড়ি আঁকা বাঁকা পথ ধরে চা বাগান জঙ্গল এর পথ ধরে এসে পৌছালাম লাভার্স পয়েন্টে ওপর থেকে নিচে তিস্তা। র রংগীত এর দৃশ্য দেখে অপূর্ব লাগলো।। নিচে যেতে ইচ্ছা প্রকাশ করায় ড্রাইভার বললো নিয়ে যাবে।। চলে এলাম তিস্তা আর রংগিতের মিলন স্থল দেখলাম খুব ভালো লাগলো।। এখানে একটু উঁচুতে টেন্ট করেও একটা দিন থাকা যায়।। তারপর আবার ছুটলো গাড়ি সানসের এর দিকে সানসের পৌঁছাতে প্রায় 2.30 বেজে গেল অপূর্ব সুন্দর হোম স্টেএর নাম মনে থাকলেও মালিকের নাম মনে আছে সরীফ বাবু খুবই ভালো মানুষ।।। তার দুটি সারমেও আছে তারাও খুব ভালো একটার নাম সিম্বা খুব শান্ত ও মিশুখে।।। দুপুরের সুস্বাদু খাবার খেয়ে একটু আসে পাশে ঘুরতে ঘুরতে বিকেল গড়িয়ে সন্ধে হয়ে গেল।। তারপর ফিরে এসে হোম স্টে এর আরো তিনটি পরিবারের সাথে আলাপ হলো তারপর আর কি চা আড্ডা গান আর বাচ্ছা দের হুল্লোড়।।।।।এই করেই সময় তিস্তা আর রংগিতের নদীর মতো বয়ে গেল।।। সকালে ঘুম ভাঙল টুপটাপ করে হোম স্টে এর চলে পড়া বৃষ্টির মিষ্টি আওয়াজে।। ঘুমথেকে উঠে দেখি এক অন্য মেঘপিওনের দেশে এসে গেছি।।। সামনের পাহাড় গুলো হালকা ও ভারী ঘন কুয়াশায় আর মেঘে ঢেকেছে।।। অপূর্ব এই পাহাড়ের রূপ বারবার আমাকে এই পাহাড়ে টেনে নিয়ে আসার প্রেরণা যোগায়।।। কাঞ্চনজঙ্ঘা নাদেখা কে ভুলিয়ে রাখে।।।। মন স্থির করে প্রাতরাশ সেরে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম ইচ্ছে গাঁও, রামদুরা দর্শনে অপূর্ব সুন্দর এই জায়গা গুলোর রূপের সর আস্বাদন করে ফিরে আসা সানসের নিজের ঘরে।।।। সময় যতই যায় মনটা খারাপ হতে লাগে ছেড়ে চলে যেতে হবে কাল এই রূপময় পাহাড় কে ছেড়ে আবার সেই ইট কাট পাথরে ভরা ধুলোয় ভরা সেই শহরে।।।
এই কষ্ট খানিক তা লঘু হলো হোম স্টে আরো তিনটে পরিবার মিলে ক্যাম্প ফায়ার করে তন্দুরি সহযোগে আড্ডা দিয়ে,আড্ডা চললো রাত 11টা অবধি।।।।
পরের দিন আবার সেই চেনা সকাল আর সেই চেনা অচেনা পথ ধরে মন ভারাক্রান্ত করে নীচে নেমে এলাম NJP তে সন্ধের ট্রেন ধরব বলে।।।।
******বলে রাখি তিনচুলে যে থাকা খাওয়া নিয়ে আমাদের 1500 টাকা করে একদিন ও একজনের পড়েছিল আর সানসের হোম স্টে তে 1550 মতো পড়েছিল।। গাড়ি রোজ হিসাবে 3000/3500 টাকা মতো পরে।।।হোম স্টে তে বললে ওরাই গাড়ি পাঠিয়ে দেয়।।।
সব জায়গা গুলো হয়তো অনলাইন বুক করা যায় বা হোম স্টএর ফোন নাম্বার পাওয়া যায়।।।।