image description

Journey to Ghatshila


আমি আর আমার এক senior office colleague হটাৎ করে ঠিক  করলাম কোথাও একটু ঘুরে আসি। শনিবার যাবো- রবিবার ফিরে আসবো। ঠিক হল ঘাটশিলা যাওয়া যাক। গরম তো হবেই জানা কথা। আর আগুপিছু না ভেবে 26th May  ইস্পাত এক্সপ্রেসে টিকিট কেটে ফেললাম। এখন off season তাই থাকার হোটেল নিয়ে মাথাব্যাথা নেই। শুক্রবার সন্ধ্যা বেলায় হোটেল বিভুতিবিহারে ফোন করলাম। ওখান থেকে জানালো এক দিনের জন্য রুম পাবো, কোন আসুবিধে নেই। শনিবার সকালে ইস্পাত এক্সপ্রেস ধরে সকাল ১০ টায় ঘাটশিলা। station থেকে অটো করে হোটেল বিভুতিবিহার। রাস্তায় যেতে যেতে অটো দাদার ( সুরেন্দর সিং)সাথে কথা বলে আমরা ট্রিপটা সাজালাম। কিন্তু একটাই সমস্যা হল আমাদের হোটেলে চেকইন করে ফ্রেশ হয়ে সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে পড়তে হবে। আমরা একটু দোনামোনা করছিলাম। কিন্তু যখন বুরুডি ড্যামে দেশী মুরগী দিয়ে লাঞ্চ আর মহুয়ার কথা বললো আর নিজেদের আটকাতে পারলাম না। যাই হোক দেশী মুরগী আর কপালে জুটলনা। এই off season বুরুডি ড্যামে একটি মাত্র হোটেল টিমটিম করে চলছে। অনেক চেষ্টা করেও হোটেল মালিক রামলাল সিং এর সাথে যোগাযোগ করা গেলোনা। আমাদের অটো দাদা অনেক চেষ্টা করলো। এমন কি station এর অন্যান্য অটোওয়ালাদের ফোন করলো, যদি কেও ট্যুরিস্ট নিয়ে বুরুডি ড্যামে যায় তাহলে রামলাল সিংকে দুটো দেশী মুরগী মিল যেন বলে দেয়। কিন্তু ওই যে off season। অগত্যা হাঁসডিম দিয়ে লাঞ্চ সারলাম। 



তারপর এল মহুয়া। বুরুডি ড্যামে পাঠ চুকিয়ে চললাম ধারাগিরি ফলস। ওহ রাস্তার দুদিকে কি অসাধারণ দৃশ্য। একজন গাইড নিয়ে জঙ্গলের ভেতর দিয়ে পায়ে হেঁটে চললাম ধারাগিরি ফলস। এখন ফলসে কোনো জল নেই। কিন্তু ওখানের পরিবেশটা এতো সুন্দর যে বলে বোঝানো যাবে না l 



ধারাগিরি ফলস থেকে ফিরে চললাম রাতমোহনা। সুবর্নরেখা নদীর পাড়ে সুর্যাস্ত দেখে মন ভরে গেলো। ওখান থেকে চললাম চিত্রকুট পাহাড়। তখন প্রায় সন্ধ্যে হয়ে এসেছে।পাহাড়টি আকারে ও আয়তানে খুবই ছোট। ভাবছি ধুর আর পাহাড়ে উঠে কি করবো। সাতপ্যাঁচ ভাবতে ভাবতে উঠেই পড়লাম। আর উঠেই দেখি পাহাড়টার চারিপাশ একটা গোলাপি আলোতে ঢাকা। বেশ ভালই লাগলো। এবার হোটেল ফেরার পালা। 



পরের দিন ভোর বেলায় হোটেল থেকে পায়ে হেঁটে গেলাম ফুলডুংরি পাহাড়। ফিরে এসে ব্রেকফাস্ট করে সকাল 8.30 তে বেরিয়ে পড়লাম। প্রথমে গেলাম গালুডি 
ড্যাম। ওখান থেকে সোজা রঙ্কিনী কালী মন্দির। একদম রাস্তার পাশেই মন্দির। রঙ্কিনী কালী মন্দির থেকে রওনা দিলাম নারওয়া ফরেস্ট। পাহাড়-নদী-জঙ্গল এক আসাধারন পরিবেশ। ওখানে বেশ কিছুক্ষন সময় কাটিয়ে চললাম শেষ গন্তব্য এক পাহাড়ের ওপর সিদ্ধেস্বর শিব মন্দির। এখানের পাহাড়ের রাস্তাটি দারুন। তবে গরমে আবস্থা কাহিল। আর পারছিলামনা। ফেরার পথে রাস্তাতেই লাঞ্চ সেরে দুপুরে 2  টো তে হোটেলে ফিরলাম। একঘুম দিয়েই বিকেলে বরবিল জন-শতাব্দী ধরে হাওড়া। 



কিছু দরকারি তথ্য – হোটেল বিভুতিবিহার contact No :  9771034151
                       Auto driver ( Surendar Sing ) contact No :  7781970845 / 7771275061
রামলাল সিং ( Food  & Tent Accomodation in Burudih Lake) : 7257822686